1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন কার্যকর ও নিরাপদ

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০
  • ১০২ বার

বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন (টিকা) কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। সোমবার অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বহুল প্রতীক্ষিত ফল প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট এটি প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম এবং ঝুঁকিমুক্ত।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এক হাজার ৭৭ জনের দেহে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন চ্যাডক্স১ এনকোভ-১৯ প্রয়োগ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ভ্যাকসিনটি অ্যান্টিবডি এবং শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

তবে ভ্যাকসিনটির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যদিও সেগুলো খুব বিপজ্জনক কিছু নয়। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৭০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, টিকা নেয়ার পর তাদের সামান্য জ্বর অথবা মাথাব্যথা হয়েছিল।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় আমাদের টিকা কাজ করবে, সেটা বলার আগে আমাদের আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া ফলাফলে আমরা অনেক আশাবাদী।

সাধারণত এ ধরনের টিকা তৈরিতে বহু বছর লেগে যায়। সেই বিচারে একে বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে যথেষ্ট সুরক্ষা দেবে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ এটির কার্যকারিতা ও সুরক্ষার ব্যাপারে আরও নিখুঁতভাবে জানতে বৃহৎ পরিসরে দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষা চলমান রয়েছে।

আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে দেয়ার জন্য ভ্যাকসিনটি যথেষ্ট নিরাপদ কিনা সেটি জানাই ছিল মূলত প্রথম ধাপের পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য। তবে দ্বিতীয় ধাপের ফলে এটি আরও বেশি কার্যকর ও নিরাপদ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিনটির তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য ৪২ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর দেহে তা প্রয়োগ হবে। এ ধাপের পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার মানুষের দেহে তা প্রয়োগ করবে অক্সফোর্ড। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ হাজার ও ব্রাজিলে ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে ভ্যাকসিনটি দেয়া হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করছে ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যালস জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকা। অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলেছে, চলতি বছরের শেষ দিকে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতার ব্যাপারে তারা চূড়ান্ত তথ্য-উপাত্ত পাবেন বলে আশা করছেন। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে এই ভ্যাকসিনের ১০০ মিলিয়ন ডোজ অর্ডার করেছে।

কীভাবে কাজ করে এ টিকা : অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন চ্যাডক্স১ এনকোভ-১৯ তৈরি করতে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। শিম্পাঞ্জির শরীরে সাধারণ সর্দিকাশি তৈরি করে, এমন একটি ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন করে এই টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে। এটাকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে এটা মানব শরীরে সংক্রমণ তৈরি না করে। এটাকে করোনাভাইরাসের কাছাকাছি একটা সাদৃশ্যও দেয়া হয়েছে। যে টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে, তার ভেতরে করোনার স্পাইক প্রোটিনের জিনগত বৈশিষ্ট্য ঢুকিয়ে (যে অংশটি আমাদের কোষকে আক্রমণ করে) দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর মানে হল, টিকাটি করোনাভাইরাসের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং শরীরের ভেতর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুঝতে পারে যে, কীভাবে করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে পরাস্ত করা যাবে।

অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বেশিরভাগ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে অ্যান্টিবডির দিকে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি অংশ। অ্যান্টিবডি হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার তৈরি করা ছোট আকারের প্রোটিন, যা ভাইরাসের সঙ্গে মিলে গিয়ে সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। টি-সেল, রক্তের সাদা একটি অংশ আক্রান্ত কোষগুলোকে খুঁজে বের করতে আর ধ্বংস করতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সাহায্য করে।

প্রায় সব কার্যকর টিকাই অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার মাধ্যমে কাজ করে।

টিকা দেয়ার ১৪ দিন পরে টি-সেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় আর অ্যান্টিবডির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় ২৮ দিনের মধ্যে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যাপারটি কেমন হতে পারে, সেটি এখনও যাচাই করে দেখতে পারেননি গবেষকরা।

সুত্রঃ বিবিসি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ