1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

আতংকে ওয়ারী ও রাজাবাজার: বলছে- ‌‘নিউজ দেখছি, রেড জোন তো দেখছি না!’

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২০
  • ১১৮ বার

‘রেড জোন’ হিসেবে কড়া লকডাউনের শঙ্কায় গত শনিবার সন্ধ্যা থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ধুম পড়ে যায় রাজধানীর ওয়ারী ও রাজাবাজারে। গতকাল রবিবারও ওই দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল আগামী দিনগুলোর প্রস্তুতি। লকডাউন কবে থেকে কার্যকর হবে তা নিয়েও বিভ্রান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় রাজধানীসহ সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী ওয়ারী ও রাজাবাজার—এ দুই রেড জোনকে লকডাউন করা হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে গত শনিবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তবে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লকডাউন কার্যকরের খবর পাওয়া যায়নি। জনজীবনও ছিল স্বাভাবিক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ওয়ারীতে বলধা গার্ডেনের কাছে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক অপেক্ষা করছেন। উদ্দেশ্য, লকডাউনের খবর সংগ্রহ করা। বাস্তবে কোথাও লকডাউন দেখতে না পেয়ে থানায় যান পুলিশের বক্তব্য জানতে। পরে ওয়ারী এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানপাট খোলা। মানুষজন স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছে। রাস্তায় সব ধরনের যানবাহনই চলছে।

ওয়ারীর বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দুই দিন ধরে টিভি-পত্রিকায় নিউজ দেখছি যে আমাদের এলাকা রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে। লকডাউন করা হবে। কিন্তু তা তো দেখছি না। ওদিকে আমাদের এলাকায় যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে গেছে।’

পাশেই থাকা আরেকজন বলেন, ‘ধানমণ্ডিতে আমার এক আত্মীয় পরিবার নিয়ে আড়াই মাস ধরে ঘর থেকে বের হয়নি। কিন্তু জ্বর আসার পর তাদের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেল পরিবারের চারজনই করোনায় আক্রান্ত। এটা কিভাবে হলো তারা বুঝতে পারছে না।’

লকডাউন কার্যকরের ব্যাপারে ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান গতকাল বিকেলে বলেন, ‘ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব ও পশ্চিম রাজাবাজারে প্রায় সব দোকানপাট খোলা। মানুষের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। সাইফুল ইসলাম নামের এক দোকানি বলেন, ‘দুই মাসের বেশি সময় ধইরা দোকান খোলা-বন্ধের মধ্যেই আছিলাম। এখনো বিকেল ৪টায় বন্ধ করা লাগে। লকডাউন তুইলা দেওনের পর আইজকাই সবচেয়ে বেশি মানুষ চাল-ডালসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতে আইতাছে।’

এক বস্তা চাল নিয়েছেন সাবিনা রহমান। লকডাউনের কারণে বেশি করে কিনছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টিভিতে দেখলাম আজ থেকে লকডাউন! হঠাৎ করে রাতে সংবাদটি দেখে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। অনেক কিছু কেনা বাকি। পরে সকালে উঠে জানতে পেরেছি দোকান খোলা আছে। কী কী লাগবে লিস্ট করে বের হয়েছি।’

পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর এ দুটি এলাকায় লকডাউনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বাসিন্দারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। দোকানপাট কতটা কী খোলা থাকবে, অফিস বা কর্মস্থলে যেতে পারবে কি না—এমন অনেক প্রশ্ন জাগে তাদের মনে।

পূর্ব রাজাবাজার সড়কের আমির হামজা বলেন, ‘রাতে কয়েকটা টিভি চ্যানেল আর অনলাইন পত্রিকায় লকডাউনের খবরটা দেখি। সন্ধ্যার পর খবরটা পাওয়ার পর একটু চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। এবার কেমন লকডাউন হবে, বের হওয়া যাবে কি না! পরে সকালে উঠে দেখি সব ঠিকঠাক। বরং আগের চেয়ে রাস্তাঘাটে মানুষের চাপ বেশি।’

জানা গেছে, পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় করোনা রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। পশ্চিম রাজাবাজারে কম শনাক্ত হওয়ায় এলাকাটিকে লকডাউন ঘোষণা নাও করা হতে পারে। পশ্চিম রাজাবাজার রোডের বউবাজার এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, এই মহল্লায় আক্রান্ত একেবারেই কম। এর পরও লকডাউন হবে কি না বুঝতে পারছি না।’

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় কথা জানিয়েছে শেরেবাংলা থানা। ওসি জানে আলম মুন্সি বলেন, ‘যেহেতু লকডাউন ঘোষণা হয়নি তাই সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক চলাফেরা করছে। তবে আমরাও শুনেছি লকডাউন দেওয়া হতে পারে। আনুষ্ঠানিক অর্ডার পাইনি, তাই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে লকডাউন বাস্তবায়নে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজাবাজার এলাকা নিয়ে গঠিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়ারী ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত। ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত শনিবার লকডাউন কার্যকরের কৌশল নিয়ে নগর ভবনে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশ আসেনি।’

ডিএসসিসির ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলো গতকাল বিকেলে বলেন, ‘লকডাউন কার্যকরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা মাঠে রয়েছি। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর মেয়র মহোদয় আমাদের জানাবেন। আমরা এখন মেয়রের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ