1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

ঈদ নেই ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের পরিবারে

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ মে, ২০২০
  • ১৪৬ বার

রাজধানীর সদরঘাট থেকে আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ রুটে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের বাস চালান মো. শামীম। গত ২৬ মার্চ থেকে বাসের চাকা বন্ধ। শামীমের সংসারের চাকাও আর চলছে না। পরিবারের ছয় সদস্যের খাবার জোগাড় করছেন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে। বাসাভাড়া দিতে পারছেন না। শামীমের মতো দেশের ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের দিন কাটছে কষ্টে।

এদিকে কয়েক দিন বাদেই ঈদুল ফিতর। অন্যান্য বছর এ সময় ঈদ যাত্রা সামনে রেখে বাড়তি শ্রম ও সময় দিয়ে বেশি আয়ের প্রস্তুতি নিতেন পরিবহন শ্রমিকরা। এবার ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি নেই। ঈদের আনন্দ দূরে থাক, প্রতিটি দিন পার করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এরই মধ্যে বেঁচে থাকার তাগিদে পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশ বেছে নিয়েছে ভিন্ন পেশা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ চলমান সাধারণ ছুটিতে গণপরিবহনও বন্ধ রয়েছে। সীমিতভাবে কেবল পণ্যবাহী গাড়ি চলছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরপরই সরকার দিনমজুরদের জন্য ৭৬০ কোটি টাকার সহায়তার ঘোষণা দেয়। তবে পরিবহন খাতের মালিক, শ্রমিক নেতাসহ সাধারণ শ্রমিকরা বলছেন, এই সহায়তা পরিবহন শ্রমিকরা পাচ্ছেন না। কিভাবে তালিকা হচ্ছে তা-ও তাঁরা জানেন না।

গতকাল শনিবার বিকেলে শামীম বলন, ‘কোনো সরকারি সহায়তাও তো পাইলাম না। তালিকায় নামও উঠল না।’

বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুভংকর ঘোষ রাকেশ গতকাল বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে পরিবহন শ্রমিকরা বাড়তি আয়ের জন্য প্রস্তুতি নেন। বোনাস পান। এবার তাঁরা আগের মতো ঈদ উদ্যাপন করতে পারছেন না। কারণ করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হচ্ছে। এ কারণে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাস বন্ধ রাখতেই হবে।’ গত মাসে পরিবহন খাতে সহায়তার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংসার চলছে না বলে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবিতে গত কয়েক দিনে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রাস্তায় নেমেছেন। বেশ কিছু স্থানে ত্রাণের দাবিতে কর্মসূচি পালনও করেছেন তাঁরা।

শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা যায়, পরিবহন খাতে বছরে দুই হাজার কোটি টাকার চাঁদা তোলা হয়। তার একটি অংশ দিয়ে গড়ে তোলা হয় পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ তহবিল। সেই তহবিল থেকে এই দুঃসময়ে কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।

তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে কল্যাণ তহবিলের অর্থ খরচ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ পাওয়ার দাবি জানিয়েছি আমরা বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কাছে। ৭০ লাখ সড়ক পরিবহন শ্রমিককে বাঁচাতে আমরা বাস টার্মিনালের কাছে ওএমএসের চাল বিক্রি করার অনুরোধ করেছি।’ তবে কোনো আবেদনেই কিছু হচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়ি চলছে না বলে পরিবহন মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন না। ঈদের বোনাসও দেবেন না। উল্টো তাঁরা বলছেন, গাড়ি বসিয়ে রাখায় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে, গ্যারেজ ভাড়া দিতে হচ্ছে। গাড়ি পাহারার জন্য নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের শুধু খোরাকি দেওয়া হচ্ছে। গড়ে একটি গাড়ির পাহারায় আছেন একজন শ্রমিক।

ভিন্ন পেশায় পরিবহন শ্রমিকরা

তৈরি পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে চার বছর আগে পরিবহন চালকের সহকারীর কাজ শুরু করেছিলেন রাকিব হোসেন। দিনে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা রোজগার হতো। গাড়ি বন্ধ হওয়ার পর কিছু দিন বসেছিলেন। অভাবের তাড়নায় এখন রিকশা চালাচ্ছেন। রাকিবের মতো পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই বেছে নিয়েছেন নতুন পেশা। অনেকে এখন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। মৌসুমি ফল বা সবজি বিক্রি করছেন। ঈদ উপলক্ষে ভ্যানগাড়িতে কাপড়চোপড় নিয়ে ফেরি করছেন অনেকে।

রাকিব বলেন, ‘কোনো শ্রমিকই এমন দুর্দিনের জন্য প্রস্তুত ছিল না। প্রতিটি বাসে চালকসহ তিন থেকে চারজন শ্রমিক থাকে। করোনার কারণে গাড়ি বন্ধ হওয়ার পর মালিক সবাইকে বিদায় করে দিয়েছেন।’

রাজধানীর জোয়ারসাহারা এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করছেন পরিবহন শ্রমিক মো. নয়ন। তিনি জানান, ঘরে বসে থাকতে থাকতে জমানো টাকা শেষ। স্বজনদের কাছ থেকে কিছু ধারকর্জ করেছেন। কোনো উপায় না দেখে রমজানের শুরুতে ভ্যানগাড়ি ভাড়া করে সবজি বিক্রি করছেন। বাবা-মা, দুই সন্তানসহ তাঁর সংসারে ছয় সদস্য। নয়ন বলেন, দিন শেষে ভ্যান ভাড়া দেওয়ার পর কিছু টাকা থাকে। একটু কষ্ট হলেও পরিবার নিয়ে চলতে পারছেন।

নয়নের মতো সবজি ব্যবসায়ী এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বাসচালক হিমেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগে দিনে হাজার দেড়েক টাকা আয় হতো। এখন তার চেয়ে কম আয় হচ্ছে। মা-বাবা, দুটি সন্তাসহ ছয়জনের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের হানিফ পরিবহনের চালক বাবুল মিয়া বলেন, ‘হাতে টাকা নেই, ব্যাংকেও নেই। পথে হেঁটে ত্রাণ পেলে বাসায় ফিরি। রাতেও জাহাঙ্গীর গেটের কাছে সড়কে বসে থাকি।’

সারা দেশে সিএনজি অটোরিকশা ও অটোটেম্পো শ্রমিক আছেন আট লাখ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ (খোকন) বলেন, ‘অটোরিকশা ও অটোটেম্পো চালকরা ঘরবন্দি। ছোট ব্যবসায় নামার পুঁজিও তাদের নেই। তাদের ঈদের আনন্দ তো আগেই মাটি হয়ে গেছে।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ