1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

এক সুতোয় পদ্মার দুই পাড়

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১১১ বার

সব অনিশ্চয়তাকে মিথ্যা প্রমাণ করে অবিশ্বাস্য এক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করলো বাংলাদেশ। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর টু-এফ নামে ৪১তম শেষ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। এটি বসানোর মধ্যে দিয়ে এক সুতোয় মিলেছে পদ্মার দুই পাড়। প্রমত্তা পদ্মা জুড়ে এখন দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের সেতুর পুরো কাঠামো।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সর্বশেষ স্প্যান ‘২-এফ’ বসানোর কাজ শেষ হয়। এর মধ্যে দিয়ে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে মাদারীপুরের জাজিরা প্রান্ত (৬.১৫ কিলোমিটার) পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়েছে পুরো সেতু।

৪০তম স্প্যান বসানোর ছয় দিনের মাথায় বসানো হলো ৪১তম স্প্যানটি। তবে শেষ স্প্যান বসানোর পর পুরো পদ্মা সেতু দৃষ্টিসীমার মধ্যে চলে এলেও সেতুটি চালুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো ১০ মাস থেকে এক বছর।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূলসেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের।

তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে সেতুতে সর্বশেষ স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কুয়াশা থাকায় কাজ শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে ৪১তম স্প‌্যানটি বাসনোর কাজ শেষ হয়।

৪০তম স্প্যান বসানোর ছয় দিনের মাথায় সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া অংশে মাঝ নদীতে ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে (পিলারের ওপরের প্লাটফর্ম) ৪১তম স্প্যানটি বাসানো হয়। রাতেই স্প্যানটি ভাসমান ক্রেনে করে নির্ধারিত পিলারের কাছে নেয়া হয়।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৪০টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর পাঁচ হাজার ৮৫০ মিটার অংশ।

৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হবে। সব কয়টি পিলার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

সর্বশেষ পদ্মাসেতু প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিলো ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তৃতীয় দফায় আরও ১ হাজার ৪শ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে একনেক ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল। পরে নকশা পরিবর্তন হয়ে দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে যায়।

২০১১ সালে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সংশোধিত প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালে আবারো ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ালে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সবশেষ আরও ১৪০০ কোটি টাকা বাড়ে।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে পদ্মা সেতু।

এ জাতীয় আরো সংবাদ