1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন

এবার দক্ষিণে হবে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১১৮ বার

সরকার দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ভাবছে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় কেন্দ্রের স্থান, সেখানকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ভূমি, বিগত প্রায় একশ বছরের ভূমিকম্পের তথ্যসহ নানা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। দ্বিতীয় কেন্দ্রটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও প্রকল্পটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

রূপপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট। পর্যায়ক্রমে ২০২২ ও ২০২৩ সালে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ভাবছে সরকার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও সিনিয়র সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নির্মাণ অনেক সময়সাপেক্ষ বিষয়। দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রথম প্রকল্প সফলভাবে শেষ করে দ্বিতীয় প্রকল্প নিয়ে কাজ করব। তবে দ্বিতীয় প্রকল্পের প্রাথমিক অবস্থা স্থান নির্ধারণ পর্যায়ে রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ রয়েছে। তার আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় ভূমি নির্বাচনের প্রাথমিক কাজ চলছে। কয়টি জায়গায় ভূমি দেখা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় পাঁচটি স্থানের বিষয়ে প্রাক-সমীক্ষা চলছে। এগুলো অবশ্য চূড়ান্ত নয়।

আনোয়ার হোসেন বলেন, মোট পাঁচটি জায়গার বিষয়ে পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সমীক্ষা করা হচ্ছে। সব দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালীর দিকে। সচিব বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমিটিও অনেক বছর আগে নির্বাচিত করে রাখা। দ্বিতীয় কেন্দ্রটির জমি আমরা চাই রেডি করে রাখতে। তবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সফলভাবে উৎপাদনে গেলে দ্বিতীয় কেন্দ্র এগিয়ে নেওয়া হবে। সচিব বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের অনেক দক্ষ লোকবল তৈরি হবে। তখন সেই লোকবল দ্বিতীয় কেন্দ্রটি নির্মাণে অনেকটা সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের দিকে বিদ্যুৎ সংকট থাকায় সরকার দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর দেয়। প্রাথমকিভাবে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংকট সামাল দেওয়া হয়। পরে গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ আরও কমিয়ে আনতে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও উচ্চপ্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ঝুঁকির প্রশ্ন এলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্যে দিয়ে সর্ব্বোচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর করে নির্মাণ করা হচ্ছে।

জানা যায়, বিশ্বের ৩০টি দেশে ৪৪৯ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদনে আসবে নতুন ১৭৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র। চলমান এসব প্রকল্পের মধ্যে নতুন দেশ হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎজগতে প্রবেশ করবে ৩০টি দেশ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ