1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

কুবলয়- তৃতীয় পর্ব

সিফাত হালিম, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ২৬২ বার

হেমন্তের গোধূলি লগ্ন। শীত সমাগত। একদিন হঠাৎই প্রেমার ভয়ানক সব নেশা করার খবর উড়োউড়ো শুনল বাঁধন। প্রেমার অন্য অনেক ব্যাপারের মতো এ বিষয়টাও বাঁধনের কাছে ঘোর অশ্পষ্ট। সে চোখে দেখেনি কিছুই। কথাটা তাই গুরুত্বের মনে হয়না ।
পিয়াস কাউকে না বলার শর্তে প্রতিজ্ঞা করে কথাটা বলায়, বাঁধন অন্তরে বিচলিত বোধ করল।
সে কিঞ্চিত উত্তেজনাপূর্ণ বুকে এলো প্রেমার বাড়িতে।
প্রেমার সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই শুধালো, “আজকাল সবাই একটা খারাপ কথা বলছে।”
—, “কী কথা?”
—, “সেরকম কিছু হলে, কথাটার মানে খুবই খারাপ।”
—, “আমার সম্পর্কে?”
বাঁধনের উত্তেজিত মুখে আটকে যাচ্ছে কথা। প্রেমা অবাক হয়েছিল।
বাঁধন লজ্জায় মুখ নীচু করল। তারপর বলল, “হ্যাঁ, তোমার সম্পর্কে।”
প্রেমার কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। গাঢ় একটা নিঃশ্বাস টেনে নিল। খুবই স্বাভাবিক ভাবে বলল,” আমি তো খারাপই। আবার কী?”
বাঁধন হাত জোড় করে বলল, “না, না, তুমি যা ভাবছ, ঠিক সেরকম খারাপ না।”
—, “তবে?”
বাঁধন যেন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। সে বললো,” এ খারাপ আরও অন্য দিকে। নেশা জাতীয় কিছুতে। অবশ্যই বড় ভয়ংকর। তুমি নাকি মাদকাসক্ত? নিয়মিত নেশা কর।”
ভেতরে ভেতরে ঝাঁকি লাগে প্রেমার।
বাঁধনের ব্যক্তিত্ব, সততা আর নীতিকে প্রেমার অত্যন্ত ভয়। ভদ্রতা এবং উদার ব্যবহারে এই ছেলেটা অতুলনীয়। সবার সেরা। প্রেমা শুধু ওকে ভালোই বাসে না, সমীহ করে।
—,” হ্যাঁ নেশা করি। ভালো লাগে বলে করি। অন্যের টাকায় তো নয়।”বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে স্পষ্ট উত্তর দিল প্রেমা।
এমন স্বীকারোক্তি। রক্ত উঠে এসেছে বাঁধনের মাথায়। গা মাথা ঝিমঝিম করছে। মনেহয় এই মুহূর্তে ছিটকে বেরিয়ে আসে।
প্রেমা এগিয়ে গিয়ে বাঁধনের ঘাঢ়ে দুই হাত তুলে দিল। মলিন হেসে বলল,” এতদিন পরে তুমি আমার সব খবর রাখো ? ”
—, “রাখব না। এ খবর তোমাদের এখানকার সবাই জানে। ঐ বেটা বদমাশ পিয়াস বললো, আমি বিশ্বাস করিনা।”
– —, “না বদমাশ হবে কেন, বেঠিক বলেনি। যার যা নিয়তি।তোমার অভিযোগ সত্য। নেশার অভ্যাস আমার আজকালের না। এই অভ্যাস অনেক পুরনো। জামিলের থেকে পেয়েছি।”
বাঁধন প্রেমার হাত আলগোছে সরিয়ে একটু সরে দাঁড়াল। তার মুখখানা কালো। চাপা কষ্টে সে কোনো প্রশ্ন করতে পারল না।
প্রেমা হঠাৎ বলল,” আমি কখনোই এমনটা হতে চাইনি। স্বাভাবিক জীবন, ঘর – সংসার, স্বাভাবিক সব কিছু চেয়েছি। কিন্তু কেন যে হয়ে গেল এসব। কী করে বলব। ”
মুহূর্তের মধ্যে বাঁধন ওর পাশে দাঁড়িয়ে প্রেমার মাথায় হাত দিয়ে বলল, “আমার কথা শুনবে না?”
প্রেমা মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ শুনবো।”
—,”ছেড়ে দাও। একবারে না পারলে, একটু একটু করে। চেষ্টার অসাধ্য কী। ”
প্রেমা যে কী সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে আর হাসে। এখন সম্পূর্ণ অন্যরকম কন্ঠস্বর, করুণ দৃষ্টি।
কিছু সময় তাকিয়ে বাঁধনের বুকের ওপর মুখখানা নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললো,” ছাড়তে পারছি না। কত জায়গায় ছুটে গেলাম। পাগল হয়ে ঘুরে বেড়ালাম মানুষের ভিড়ে, শূন্যতার মাঝে। ছাড়তে পারলাম না। এইভাবেই দিনগুলি কাটে।দিনের বেলায় অনেক আবরণ দিয়ে নিজেকে ঢেকে রাখি। কিন্তু রাতে সত্যি সত্যি আমি পারি না। এতো জ্বালা বুকে নিয়ে কেউই পারে না। এখন তো আবার তুমি জুটেছো। আমার সব কথা শুনলে তুমি বুঝতে। যাকগে, একটা কথা বলবো। কিছু মনে করবে না।”
—,” কিছু মনে করবো না। বলো। ”
প্রেমা মুখ নীচু করে রইলো বেশ কিছুক্ষণ। তারপর কাঁদতে কাঁদতে বললো,” তুমি খুব ভালো মানুষ বাঁধন। তোমার মতো মানুষ এ জগতে অচল। আমাদের দেখা না হওয়াটা ভালো ছিল। বিশ্বাস করো, এই যেমন তোমাকে ভালোবাসি বুঝলাম, তোমাকেও ছাড়তে পারছি না। আবার কাছেও টানতে পারি না।এই দুয়ের ভীষণ জ্বালা। বাঁধা আর অস্থিরতা। কাঁটার মতো বিঁধবে সর্বক্ষণ। তোমার আমার দেখা হলো কেন? তোমাকে নিয়ে এখন অন্যরকম কিছু গড়তে ইচ্ছে করে। অথচ বিধাতা কী এক ব্যবধান তৈরী করেছেন। আমি তা ভাঙ্গতে পারব না। বিবেকের দংশনে শুধু জ্বলি। একপ্রকার শেষ হচ্ছি। আমাকে তুমি ঘৃণা করো বাঁধন। আমার কাছ থেকে পালাও। আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে জড়িয়ে পড়ো না। তোমাকে খুব ভালোবাসি। এখানে আর কখনো এসো না। নইলে তোমার নিস্তার নেই। তুমিও জ্বলবে। ছারখার হয়ে যাবে তোমার সুন্দর জীবন। নেশার মতই তুমি ও আমার কাছে। তোমাদের কাউকেই আমি ছাড়তে পারবো না। ”
প্রেমা আর দাঁড়ালো না। আপন মনে কি যেন ভাবতে ভাবতে ঘরে চলে গেল।
বাঁধনও বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে।
প্রেমা সম্পর্কে শুধু ক্রোধ নয়। ঘৃণা ও অনেকখানি জমলো বাঁধনের মনের মধ্যে। কিন্তু এ কথাও ঠিক, এর আগে সে অন্য কোনো স্ত্রীলোক নিয়ে কিছু কামনা করেনি। ভালো করে কাউকে চেয়েও দেখেনি। প্রথম সাক্ষাতের পর প্রেমার দিকে সে আকৃষ্ট হয়েছিল সুন্দর কন্ঠের রহস্যভরা সুন্দর কথায়। দূর্বার রকেটের গতি তার।
কিন্তু প্রেমা কেন এমন অস্বাভাবিক জীবন বেছে নিল? এই ইতিহাস জানতে গেলে আমাদেরকে বেশ কয়েক বছর পিছনে যেতে হবে।
চলবে…………

এ জাতীয় আরো সংবাদ