1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জব্দ সোনা ৩ হাজার কেজি

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৭ বার

স্বর্ণের নিলাম ডাকা হলে ব্যবসায়ীরা ৪০ হাজার টাকার সোনার দাম হাঁকেন তিন হাজার টাকারও কম। এ কারণে গত এক যুগেও স্বর্ণের নিলাম ডাকেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া চোরাচালানের মাধ্যমে বিভিন্ন পথে আসা বেশিরভাগ স্বর্ণের মামলা বিচারাধীন থাকায় এসব সোনার নিলাম ডাকাও সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে নিলাম বন্ধ আরেক দিকে মামলা জট- মূলত এই দুই কারণে চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জব্দ করা সোনা জমেছে ২ হাজার ৯৩০ কেজির বেশি। যার মধ্যে প্রক্রিয়াধীন মামলায় স্বর্ণের বারের পরিমাণ ২ হাজার ১ শ’ ১১ কেজি। আর স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ ৮১৯ কেজির ওপরে। শুল্ক বিভাগ, পুলিশ ও এয়ারপোর্ট আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিভিন্ন সময় এসব অবৈধ সোনা আটক করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়।

জানা যায়, দেশে মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই পূরণ হতো চোরাচালানের মাধ্যমে আনা স্বর্ণের মাধ্যমে। বাকিটা পূরণ হতো ব্যাগেস রুলসের আওতায় আনা স্বর্ণের মাধ্যমে। সম্প্রতি স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে একটি ব্যাংক ও ১৮টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ায় বৈধভাবে সোনা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ১১ কেজি সোনা আমদানির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে জব্দ করা স্বর্ণের মধ্যে আদালত থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ২ হাজার তিনশ’ কেজি সোনা কিনে রিজার্ভে যোগ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ৪ দফায় ৯১ কেজি স্বর্ণ নিলাম হয়। এরপর আর কোনো নিলাম হয়নি। দীর্ঘ ১২ বছর নিলাম না হওয়ার পেছনে আরও বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, জব্দ স্বর্ণের বিপরীতে করা মামলার নিষ্পত্তি এবং ভল্টে রাখা স্বর্ণ আদালতের মাধ্যমে সরকারের অনুকূলে জব্দ হলে সেসব স্বর্ণের নিলাম ডাকা হয়। তবে যেসব স্বর্ণ ‘বার’ বা ‘বিস্কুট’আকারে থাকে সেগুলোকে বিশুদ্ধ মনে করা হয়। এগুলো সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক কিনে নেয়। পরে রিজার্ভে দেখানোর জন্য সেগুলো ভল্টে রাখা হয়। নিলামের টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে দিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বর্ণালঙ্কার নিলামে দেওয়া হলেও স্বর্ণের বার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে দেয় না। প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণের বার কিনে নিয়ে রিজার্ভে যুক্ত করে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্থায়ী ভল্টে অবৈধভাবে বিভিন্ন পথে আসা জব্দ স্বর্ণের বারের তালাবদ্ধ সিলগালা প্যাকেট চলতি মাসের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা হয়েছে ১০টি যার পরিমাণ ২ হাজার কেজির বেশি। অপরদিকে একই সময়ে স্বর্ণালঙ্কারের তালাবদ্ধ সিলগালা প্যাকেট জমা রয়েছে ৯টি যার পরিমাণ আটশ’ কেজির ওপরে। এছাড়া রৌপ্য খাতে জমা প্যাকেট রয়েছে একটি। এর মধ্যে প্রক্রিয়াধীন মামলায় স্বর্ণের বারের পরিমাণ ২ হাজার একশ’ ১১ কেজি ও স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ ৮১৯ কেজির বেশি।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগারওয়াল ‘সারাক্ষণ’কে বলেন, ‘একদিকে নিলাম বন্ধ, অন্যদিকে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া আমদানি জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা সেই দিকে যেতে পারে না। দেরিতে হলেও বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি শুরু হয়েছে। এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত দ্রুত নিলাম কার্যক্রম শুরু করা।’

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জব্দ স্বর্ণ বছরের পর বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জমা থাকা উচিত নয়। সেই সঙ্গে এসব স্বর্ণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিলাম ডাকা হোক। এতে একদিকে দেশের রাজস্ব বাড়বে অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে স্বর্ণের সংকট দূর হবে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হলো স্বর্ণগুলো জমা রাখা। তবে দিনের পর দিন জমা থাকা মোটেও সমীচীন নয়। অতিমাত্রায় স্বর্ণ জমা হলে এগুলো নিলামে দেওয়াটাই যৌক্তিক বলে মনে করি।’ তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি মনে করে স্বর্ণ কিনে রিজার্ভে যুক্ত করবে তাও করতে পারে। তবে জব্দ স্বর্ণগুলোর মধ্যে যেগুলোর মামলা বিচারাধীন সেসব মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করা উচিত। তা না হলে চোরাকারবারিরা উৎসাহিত হবে।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ