1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

জননীর চিরকুট- ২য় পর্ব

সিফাত হালিম, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৭৪ বার

তেতলায় লিফট থেকে বেরিয়ে সোজা আমার ঘর।মাঝে লম্বা টানা বারান্দা।একপাশে দেয়াল ও অন্যান্য কক্ষের দরজা আরেক পাশে কাঁচের ঠেলা পাল্লা দিয়ে ঘেরা।দেয়ালে একটু পরপরই সোনালি ফ্রেমে ঝোলানো বিখ্যাত শিল্পীর দামি চিত্রাঙ্কন।

সেন্ট্রুমের সবকটি তলায় ঘর-বারান্দায় এরকম অনেক অসাধারণ চিত্রাঙ্কন টাঙানো।পৃথিবী খ্যাত অস্ট্রিয়ার চিত্রশিল্পী গুস্তাভ ক্লিম্ট ও অস্কার কোকোস্কারের চিত্রের পাশাপাশি রেঁনেসা যুগের নামি দামী চিত্রকর রাফায়েল, মাইকেল এনঞ্জেলো প্রভৃতি শিল্পীর চিত্রাঙ্কন দেখলাম।
সেন্ট্রুমের শ্রীবৃদ্ধি,আকর্ষণীয় যে অর্থেই হোক,অভ্যর্থনা কক্ষের অনেকটা জুড়ে আছে অ্যাকুরিয়াম।বাহারি রঙের অচেনা মাছে ভর্তি।বারান্দায়, সুবিধাজনক জায়গা বা ঘরের কর্ণারে,যেখানে চোখ যায়,বড়বড় টবের গাছ।নানাবিধ আকারের ডালপাতায় ভরা সেই সব গাছপালার মাথা গিয়ে ঠেকেছে ছাতে।
অ্যাকুরিয়ামের মাছ,টবে গাছ এবং ফ্রেমে বন্দি ছবিতে একত্রিত যে অভিব্যক্তি, তা শিল্পবোদ্ধারাই ভাল বোঝেন।এটুকু বলবো,সেন্ট্রুমের যে পরিবেশ নিঃসন্দেহে রোগীদের বিষণ্ণতা, নিঃসঙ্গতা অপনোদনের উপাদান জোগাবে।
এইসব দেখতে দেখতে আমরা ঘরে ঢুকেছি।
বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ভালমতো ধুয়ে মুছে, কাপড় পাল্টে নিলাম। এবার খেতে যাবার পালা।

পশ্চিমের দিকে, একেবারে নীচতলায় খাবার ঘর।ওপাশের শেষপ্রান্তে।বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে।বারান্দা ও খাবার ঘরের মাঝখানে এত ফাঁকা যে প্রচুর আলো আসে এখানে ।খাবার ঘরটি আয়তনে মিনি স্টেডিয়াম বলা যায়।
আমরা বারান্দা ধরে সেন্ট্রুমের শেষমাথায় এসে আরেকটি লিফটে করে নীচে নামলাম।তারপর পশ্চিমের দিকে হেঁটে গেছি।
কুতুব খাবার ঘরের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিল।
যাবার সময় বললো,”আমি বাসের সময় দেখে গেষ্টরুমে বসছি।তুমি ওখানে চলে এসো।”
অসংখ্য বাঁকে ভরা খাঁড়া উঁচুনীচু পাহাড়ি পথ।নিয়ম করে দিনে দুইটা বাস যাতায়াত করে।একটা ইতোমধ্যে চলে গেছে।
আমি বললাম, “বেলা শেষের পথে, তুমি খাবে না?”
ও বললো,”দেখি।”
“ক্যাফে থেকে স্যান্ডউইচ অথবা যাহোক কিছু খেয়ে নিও। “আচ্ছা” কুতুব চলে গেল।

খাবার ঘরে রোগীদের খাবারের পর্ব শেষ প্রায়।একবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেখি। ঘরের ভেতর ফাঁকা ফাঁকা।যা ভেবেছিলাম, তেমন লোক নেই। চার জনের জন্য একটি করে টেবিল । রিজার্ভেসনের মতো কার্ডে নাম লিখে টেবিল নির্দিষ্ট করে রাখা।অধিকাংশ টেবিলে লোক ছিল না।
বোধহয় সবাই খেয়ে উঠে গেছেন। ঘরের মাঝখানে আমার টেবিলটি খুঁজে পেলাম। বাইরের জানালার কাছাকাছি ।চমৎকার জায়গায়।আমার টেবিলের দুটো চেয়ার খালি।টেবিলের উপরকার ভাবে মনে হলো,প্রতিবেশীদ্বয় এইমাত্র খেয়ে উঠে গেছেন। আরেকজন বয়স্ক ভদ্রলোক নিবিষ্ট মনে খাচ্ছেন তখনও । আমায় এক নজর দেখে মৃদু হাসলেন ।
আমি “মালসাইট”(ডয়েস )বলে চেয়ারে বসলাম।
একই উত্তর দিলেন প্রতিবেশী।

খাবার ঘরের পরে ওদিক কোনোকিছু নেই।দেয়ালের কারণে ঠিক দেখতে পাচ্ছি না। এ পাশে জানালার কাছাকাছি বাইরে সেন্ট্রুমের কর্মচারীদের জন্য নুড়ির রাস্তা।এরপর মোটাঘাসে ঢাকা বিস্তর ফাঁকা মাঠ।মাঝে মাঝে দুইএকটি করে মাঝারি আকারের গাছ।শীতের প্রারম্ভে এসব গাছের করুণ হাল হয় । বৃক্ষের পাতাগুলো হরিদ্রাবর্ণ ধারণ করে খসে খসে সব ডাল ন্যাড়া।শুকনো পাতার স্তূপ জমে মাঠে ।এখন মার্চ মাস,তাতে কি? বিচিত্র জায়গা। এখানে সারাবছরই কনকনে ঠাণ্ডা এবং বরফ পড়ে।মাঠের ওপার সেন্ট্রুমের শেষ সীমানায় প্রধান ফটক অবধি বিস্তৃত, গাড়ি পার্কিংয়ের খোলা জায়গা।সেখানে সমানে গাড়ি যাচ্ছে আসছে। সারসার গাড়ির আড়ালে, ফাঁকফোকড় দিয়ে পার্কিং লাগোয়া যাত্রী ছাউনি এবং বাস চলার চওড়া রাস্তা দেখতে পেলাম । শহরের মতোই দুপাশে লোকজনের জন্য সরু হাঁটাপথ রয়েছে।
সেন্ট্রুমের পেছনে কোনো ঘর বাড়ি নেই।নীচের দিকে ঢালে ভিন্নভিন্ন গন্তব্যের দুটি অসমান রাস্তা গ্রামের দিক থেকে এঁকেবেঁকে এসে মিলেছে সেন্ট্রুমের বড়ো রাস্তায়।ওই রাস্তায় বাস যায় না।গ্রামবাসী ও চাষিদের গাড়ি, ট্রাকটর চলে।পথের ধারে তাদের হেক্টর হেক্টর চাষাবাদের জমি, নেমে গেছে অনেক নীচে। আর পাথর ভরা রহস্যময় সবুজ পাহাড় আছে সামনেই। ভীষণ জঙ্গল তাতে।
চলবে………..

এ জাতীয় আরো সংবাদ