1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

জন্মনিবন্ধন নিয়ে ভোগান্তি

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১২২ বার

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্মনিবন্ধন সনদপত্র কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের কয়েক কোটি নাগরিক। আগের ম্যানুয়াল জন্মসনদ আপডেট না করা এবং সার্ভার সমস্যার কারণে নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া একই ব্যক্তিকে একাধিক জন্মসনদ দেওয়ায় এ সেক্টরে দুর্নীতি বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে কয়েক কোটি নাগরিককে ম্যানুয়াল সনদ দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার বিভাগ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। কিন্তু অনলাইন হওয়ার পর ঐসব ম্যানুয়াল সনদগুলো আর আপডেট করা হয়নি। এর ফলে দেশে কয়েক কোটি নাগরিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া সার্ভার সমস্যার কারণে গত কয়েক মাস ধরে নতুন জন্মসনদ অনলাইনে আপডেট করা যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, একই ব্যক্তিকে একাধিক জন্মসনদ দিয়ে যেমন দুর্নীতি করতে সহায়তা করছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে কিছু প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তারা। নিজেরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আজিমপুরের বাসিন্দা মো. হাসিভ হোসেন নামে এক ব্যক্তি ২০০৯ সালে তার স্ত্রী এবং নিজের জন্মসনদ দিয়ে পাসপোর্ট করেন। তিনি কয়েক বছর প্রবাসে ছিলেন। এখন দেশে থাকা অবস্থায় তার পাসপোর্ট রিনিউ করতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন। ২০০৯ সালে করা জন্মনিবন্ধন অনলাইনে না থাকায় তিনি পাসপোর্ট রিনিউ করতে সমস্যায় পড়েছেন। কারণ পাসপোর্টে তার যে জন্মনিবন্ধনের নম্বর দেওয়া আছে সেটা এখন অনলাইনে নেই। আবার তিনি নতুন করে জন্মসনদ করতে গেলে তাকে আবার পাসপোর্ট সংশোধন করতে হচ্ছে। মো. হাসিভ হোসেন বলেন, আমার ভোগান্ত্রির শেষ নেই। কখনও পাসপোর্ট অফিস, কখনও সিটি করপোরেশনের জন্মনিবন্ধন অফিস

ঘুরছি কেউ কোনো সমাধান দিতে পারছে না। তিনি বলেন, আমরা যারা আগে ম্যানুয়াল জন্মনিবন্ধন নিয়েছি, সেগুলো তথ্য যদি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উদ্যোগে অনলাইনে সবার তথ্য আপডেট করা হত। তবে আমাদের ভোগান্তি হতো না। এখন ম্যানুয়াল জন্মনিবন্ধনের আগের নম্বরসহ অনলাইন সনদ পেতে দালাল ধরতে হয় । সাধারণ মানুষ চাইলেও পুরোনো সনদের নম্বর ও তথ্য অনলাইনে করে নিতে পারছে না।

তিনি বলেন, এখন আগেরটা নষ্ট করে নতুন করে আবার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। ফলে সনদ নম্বর পরিবর্তন হচ্ছে। আগের সনদ দিয়ে যেসব কার্যক্রম করা হয়েছে, নতুন সনদে নম্বর পরিবর্তন হওয়ায় অন্য সব জায়গায় পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

এদিকে জন্মনিবন্ধন সার্ভারের সমস্যা থাকায় নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার মো. আবদুর রহিম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়েছেন ১১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে, কিন্তু এক মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পরও তার জন্মসনদের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। মো. আবদুর রহিম বলেন, আমি ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন অফিসে গিয়েছি। জন্মসনদ দেওয়ার পর নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, জন্মসনদ সঠিক থাকলেও অনলাইনে না পাওয়ায় এটি দিয়ে ভোটার হওয়া যাবে না। পরে ইউপি অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, সার্ভারের সমস্যা কবে ঠিক হবে জানা নেই।

সূত্র জানায়, একই ব্যক্তিকে একাধিক জন্মনিবন্ধন দেওয়ায় বাচ্চাদের ভর্তি নিয়ে বিপাকে পড়ছে অভিভাবকরা। দেশের প্রতিটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে নির্দিষ্ট একটি বয়স লাগে। একই ব্যক্তিকে এশাধিক জন্মসনদ দেওয়ায় অনেক স্কুলে ভর্তি নিয়ে দুর্নীতি বাড়ছে। এতে অনেক অভিভাবক ভোগান্ত্রিতে পড়ছেন। এছাড়া সার্ভার জন্মনিবন্ধন সমস্যার কারণে স্কুলে ভর্তি করাতে অভিভাবকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের (যুগ্ম সচিব) স্থানীয় করকার বিভাগ একেএম মাসুদুর রহমান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ম্যানুয়াল জন্মসনদ পরে সার্ভারে আপডেট করা হয়নি। যেহেতু এখন অনলাইন হয়েছে, সবাইকে আবার নতুন সনদ নিতে হবে।

নাগরিকরা আগের সনদের নম্বর দিয়ে পাসপোর্ট, ড্রাইভিংসহ অনেক কার্যক্রম করেছে। নতুন করে নম্বর নিয়ে সনদ করলে আবার সেগুলো নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সিস্টেম পরিবর্তন হয়েছে, এখন এটায় করতে হবে। তাদের পাসপোর্টসহ অন্য কার্যক্রমে নম্বর সংশোধন করতে হবে, কিছু করার নেই।

সার্ভার সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, এখন সার্ভারে কাজ চলছে। অনেক সমস্যা, আশা করি ২০ ডিসেম্বরের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত ম্যানুয়াল ও অনলাইনে কতজন জন্মনিবন্ধন নিয়েছে এমন প্রশ্নে একেএম মাসুদুর রহমান বলেন, ম্যানুয়াল কতজন জন্মনিবন্ধন নিয়েছে এটা আমার কছে তথ্য নেই। তবে অনলাইনে প্রায় ১৮ কোটির কাছাকাছি সনদ নিয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিকবার জন্মনিবন্ধন নেওয়ায় সংখ্যা এত বেশি।

জানা যায়, নাগরিকের জীবনের জন্ম, মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ, বিয়ে, তালাক, দত্তকÑ এসব গুরুত্বপূর্ণ জনতাত্ত্বিক ঘটনা নিবন্ধন করা এবং এ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরিসংখ্যান প্রস্তুত করার সমন্বিত প্রক্রিয়াকে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স (সিআরভিএস) বলা হয়। বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সিআরভিএসের কার্যক্রম শুরু করে এবং দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আইডি ব্যবস্থা সমন্বিত করে ইউনিক আইডি প্রবর্তন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ