1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

বিতর্ক থামাতে ‘গণভোটে’র যে ব্যাখ্যা দিলেন মমতা

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১০৩ বার

নয়া নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জ বা মানবাধিকার কমিশনের মতো নিরপেক্ষ সংস্থার পর্যবেক্ষণে গণভোটের দাবি তুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তবে তার এই বক্তব্যে দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি যেমন একদিকে দফায় দফায় আক্রমণ শোনায়, তেমনি মমতার মন্তব্যের সঙ্গে সহমত নয় বলে জানিয়ে দেয় সিপিএম ও কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলো।

বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা থামাতে গণভোটের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী জানান, তিনি জনমত যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভোটের কথা বলেছিলেন। তা যাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো নিরপেক্ষ সংস্থার নজরদারিতে হয়, সেটাই বলতে চেয়েছেন তিনি।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা আজ শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবারের মমতার ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে সকাল থেকেই আক্রমণ শুরু করে শাসক শিবির। প্রথমে সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিশন রেড্ডি। প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কীভাবে তিনি এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন? তার কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপুঞ্জকে জড়াতে চাইছেন। যা বিদেশি শক্তিকে দেশের অভ্যন্তরীণ মামলায় হস্তক্ষেপের আহ্বান।’

কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির মতে, গণভোটের দাবি তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আসলে সংসদের অপমান করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের সংবিধান ও সংসদ সর্বোচ্চ, এটা সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকেরা জানে। সংসদে পাশ হওয়া আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সন্দেহ রয়েছে। এটা সংসদকে অপমান করা। আমার আশা, গণতান্ত্রিক দেশে কেউ সংসদের উপরে এমন আক্রমণ মেনে নেবেন না।’

আর বিজেপি মুখপাত্র জি ভি এ নরসিংহ রাও বলেন, ‘মমতা পাকিস্তানের সুরে কথা বলছেন।’

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামাতে উদ্যোগী হন মমতাও। সেই প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘জনমত যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভোটের কথা বলেছিলাম। দেশের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে জনমত যাচাই করতে বলেছিলাম। তা যাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো নিরপেক্ষ সংস্থার নজরদারিতে হয়, সেটাই চেয়েছি।’

এতেও অবশ্য আক্রমণ থামেনি। এদিন রাতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘দেশীয় সমস্যায় আমরা কখনো তৃতীয় পক্ষকে জড়াই না। সম্পূর্ণ দেশীয় একটি বিষয়ে তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জকে টেনে আনার কথা বলছেন। ওর কি দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের উপরে ভরসা নেই?

এনআরসি বা সিএএ সংক্রান্ত লড়াইয়ে একসঙ্গে থাকলেও, মমতার রাষ্ট্রপুঞ্জ সংক্রান্ত মন্তব্য থেকে দূরত্ব রাখছে কংগ্রেস ও সিপিএম। কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেড়ার কথায়, ‘মমতার মতের সঙ্গে দল সহমত নয়। দেশের গণতন্ত্র যথেষ্ট পরিণত। আমাদের গণতন্ত্র সব ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সক্ষম। বাইরের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই। বাইরের কেউ যেন গণতন্ত্রকে খাটো করতে না আসে।’

আর সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘আমাদের লড়াই হলো গণতন্ত্র বাঁচানো। সংবিধানকে রক্ষা করা। তা করার জন্য বাইরের লোকেদের হস্তক্ষেপের দরকার নেই।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ