1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

‘ভয়ংকর’ নিপাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৭ বার

শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। এমনিতে এবারের শীতে নতুন এক আতঙ্ক করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। তার মধ্যে যদি কেউ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তবে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। নিপাহ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য শীতের সময় খেজুরের কাঁচা রস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, খেজুরের কাঁচা রসে নিপাহ ভাইরাস থাকতে পারে। এ ভাইরাসটি বাহক হচ্ছে বাদুড়। নিপাহ একটি মরণব্যাধি রোগ। এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা খুব একটা বেশি না হলেও এতে মৃতের হার বেশি। এ রোগে মৃত্যুহার হচ্ছে প্রায় ৭০ শতাংশ। নিপাহ ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো টিকা ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই সতর্কতা ও সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ রোগ প্রতিরোধের জন্য কাঁচা খেজুর রসের পরিবর্তে জ্বাল দিয়ে রস খাওয়াটাকেই উৎসাহিত করতে হবে।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, নিপাহে আক্রান্তের সংখ্যা খুব একটা বেশি না হলেও এতে মৃতের সংখ্যা অনেক। ২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের এ পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩১৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২২১ জন। মৃতের হার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের খরব পাওয়া যায়নি। এ বছরের যে হিসাব রয়েছে, তা গত জানুয়ারি মাসের। আর খেজুরের রসের মৌসুম হচ্ছে ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত।

আইইডিসিআরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. শারমিন সুলতানার এক প্রবন্ধ থেকে জানা গেছে, বিগত ১৮ বছরে বাংলাদেশের ৩১টি জেলায় বিভিন্ন সময়ে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গেছে। এ রোগের লক্ষণ সাধারণত এনক্যাফালাইটিসের মতোই। নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এ রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছেÑ জ্বরসহ মাথাব্যথা, খিঁচুনি, প্রলাপ বকা, অজ্ঞান হওয়াসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট।

ডা. শারমিন সুলতানার প্রবন্ধ থেকে আরও জানান, এ রোগে মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুুমে নিপাহ ভাইরাস রোগের প্রথম প্রাদুর্ভাব মালয়েশিয়ার সুঙ্গাই নিপাহ নামক গ্রামে দেখা দেয়। এই গ্রামের নামেই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়।

মূলত ফল আহারি বাদুড়ই নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক। সব বাদুড়ই এ ভাইরাসের বাহক নয়। আমাদের দেশে নিপাহ আক্রান্ত হওয়ার মূল উৎস খেজুর রস। খেজুরের রস গাছের মধ্যে হাঁড়িতে সংরক্ষণের সময় বাদুড় ওই রস পান করলে এবং পরে রসের মধ্যে তার লালা বা প্রস্রাব থেকে রস সংক্রামিত হয়। ওই রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। বাদুড়ে খাওয়া থেকে খেজুরের রসকে রক্ষা করা গেলে নিপাহ হবে না। বাদুড়ে খাওয়া ফল থেকেও নিপাহে আক্রান্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত পাশুর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে নিপাহ ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শে এলেও এ রোগ ছড়াতে পারে। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত খেজুরের রস খাওয়ার ছয় থেকে সাত দিন পর নিপাহে আক্রান্ত হয়। আর আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিপাহ ছড়াতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ দিন।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে আমদের খেজুরের কাঁচ রস পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এ ভাইরাসের উৎস বের করতে পারি না। তবে এ খেজুরের রস ফুটিয়ে পান করলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঘটনা ঘটে জানুয়ারি থেকে মার্চে। তাই আমরা ধরেই নেই খেজুরের রস যেহেতু ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাওয়া যায়, সেখান থেকে নিপাহে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময়ে খেজুরের রস বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য কাঁচা খেজুর রসের পরিবর্তে জ্বাল দিয়ে রস খাওয়াটাকেই উৎসাাহিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতি বছরই শীতের সময় দেশে খেজুরের রস খাওয়ার উৎসব চলে। এবার করোনার জন্য হবে কি না জানা নেই। কিন্তু ওই উৎসবে কাঁচা খেজুরের রস সবাই পান করে থাকেন। এ রোগের জন্য উৎসবটি খুবই রিসকি। কারণ, খেজুরের রস পান করার সঙ্গে সঙ্গে কেউ আক্রান্ত হয় না। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত খেজুরের রস খাওয়ার ছয় থেকে সাত দিন পর বুঝা যায়। লম্বা সময় পার হওয়ায় সোর্স পাওয়া যায় না যে, কোথা থেকে আক্রান্ত হয়েছে। কারণ যিনি আক্রান্ত হন, তিনি তো কিছু বলতে পারেন না। আর তার আত্মীয়স্বজন নাও জানতে পারে যে, ওই ব্যক্তি রস উৎসবে গিয়ে রস পান করেছেন কি না। তাই এ রস খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০১ সালে এ রোগটি প্রথম ধরা পড়ে। ওই বছর রোগটিতে ১৩ জন আক্রান্ত হন এবং ৯ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২০০২ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল না। ২০০৩ সালে ১২ জন আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যু ঘটেনি। ২০০৪ সালে ৬৭ জন আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৫ সালে আক্রান্ত ১৩ এবং মৃত্যু ১১ জন, ২০০৬ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যু ছিল না। ২০০৭ সালে আক্রান্ত ১৮ এবং মৃত্যু ৯ জন, ২০০৮ সালে আক্রান্ত ১১ এবং মৃত্যু ৯ জন, ২০০৯ সালে চারজন আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০১০ সালে আক্রান্ত হন ১৮ জন মৃত্যু হয় ১৬ জনের। অর্থাৎ, ২০১০ সালে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার ছিল ৮৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর ২০১১ সাল থেকে যথাক্রমে আক্রান্ত ৪২ এবং মৃত্যু ৩৬ জন, ২০১২ সালে আক্রান্ত ১৮ মৃত্যু ১৩ জন, ২০১৩ সালে আক্রান্ত ২৬ এবং মৃত্যু ২২ জন, ২০১৪ সালে আক্রান্ত ৩৮ এবং মৃত্যু ১৫ জন, ২০১৫ সালে আক্রান্ত ১৮ এবং মৃত্যু ১১ জন, ২০১৬ সালে আক্রান্ত এবং মৃত্যু ছিল না। ২০১৭ সালে আক্রান্ত তিন এবং মৃত্যু দুইজন, ২০১৮ সালে আক্রান্ত চার এবং মৃত্যু তিনজন, ২০১৯ সালে আক্রান্ত আট ও মৃত্যু সাতজন এবং চলতি বছর ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত ছয় মৃত্যু এবং চারজন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ