1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

মুজিব বর্ষে শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা চাই

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩১১ বার

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল শোষণ বঞ্চনা মুক্ত, ক্ষুধা দ্রারিদ্র মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা,সকলের মুখে হাসি ফুটানো, সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দেওয়া। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নেয়ার আগেই কিছু বিপদগামী সেনা সদস্য সেই স্বপ্ন দ্রষ্টাকে হত্যা করে। অসমাপ্ত রয়ে গেল সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এবং সকলের মুখে হাসি ফুটানো। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাক্ষণ চিন্তা করতেন সোনার বাংলা গড়ার। বাঙালি জাতিকে সমান সুযোগ সুবিধার আওতায় আনার। সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ঘেরা জীবন।

তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আজ আস্তে আস্তে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হচ্ছে। আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। দেশ এখন দারিদ্র্যতার অভিশাপ থেকে প্রায় মুক্ত। অর্থনৈতিক ভাবে এবং খাদ্যে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আশা করি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যুক্ত করবেন। মুজিব বর্ষে আমাদের স্বপ্নের জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দিবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিবেন।

ইদানিং শিক্ষকদের র্মযাদা, বেতন-ভাতা বিষয়টি একটু বেশি করেই আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বক্তব্যের পর আশা করি শিক্ষকদের র্মযাদা নিয়ে আর প্রশ্ন উঠবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষকদের মর্যাদা সবার উপরে। শিক্ষামন্ত্রীও প্রায়ই বলে থাকেন শিক্ষকদের র্মযাদা সবার উপরে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূৃর্ণ ব্যক্তিদের প্রদত্ত মর্যাদার কারণে শিক্ষক হিসেবে আমরাও গর্বিত।
ভাবতেই ভালো লাগে শিক্ষকরা আর নাথিং নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমাজের আকুল আবেদন শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মর্যাদাও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ইদানিং একটি শ্রেণির কাছে মনে হচ্ছে শিক্ষকরা পড়ান না। শুধুই প্রাইভেট টিউশনি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাদের বক্তব্য আংশিক সত্যি। কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব প্রাইভেট টিউশনি অতি মাত্রা পেয়েছে। কোথাও কোথাও ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। তাই বলে গোটা শিক্ষক সমাজকে দায়ী করা যাবে না।
এখন প্রশ্ন হলো শিক্ষকরা কেনো প্রাইভেট পড়ান? শিক্ষার্থীরাই বা কেনো প্রাইভেট পড়ে?
প্রথমত- সকল শিক্ষার্থীর মেধা সমান থাকেনা। একটু পিছিয়ে পড়া বা দূর্বল মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ক্লাশের আগে বা পড়ে প্রাইভেট পড়ে থাকে।

প্রথমত- সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্বেও সীমিত সম্পদের কারণে শিক্ষার্থীদের আনুপাতিক হারে পর্যাপ্ত শিক্ষক দেওয়া যাচ্ছেনা।
এমন অনেক কলেজ / স্কুল রয়েছে যেখানে বাংলা, ইংরেজি,গণিত ও আইসিটির কম্বাইন্ড ক্লাশে যথাক্রমে ৩০০/৪০০, ১২০/১৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। এমতবস্থায় একজন শিক্ষকের পক্ষে সঠিক পাঠদান অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা ক্লাশের আগে বা পড়ে প্রাইভেট পড়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত- অনেক শিক্ষার্থীর বাবা-মা দুজনেই চাকুরী করে থাকেন। ফলে তারা সন্তানের এক্সট্রা কেয়ার নিতে পারেন না। তাই তারা প্রাইভেট শিক্ষকের দ্বারস্থ হন।
তৃতীয়ত – প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাশের হারে অতিরিক্ত সহনশীলতা প্রদানের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোয়ানটিটি বেড়েছে ঠিকই কিন্তুু কোয়ালিটি বাড়েনি। ফলে বিশেষ বিবেচনায় পাশ করা এসব শিক্ষার্থাীরা উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাস ডাইজেষ্ট করতে হিমশিম খায় এবং প্রাইভেট শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়।
যেহেতু শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অল্প তাই তারা অবসর সময়টুকু হাটে-বাজারে না ঘুরে বা অলস সময় না কাটিয়ে অতিরিক্ত কিছু রোজগারের আশায় ক্লাশের আগে বা পড়ে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন। আর এটাকেই অনেকে ব্যবসা হিসেবে দেখছেন।
শিক্ষকরা হচ্ছেন সমাজের সবচেয়ে নীরিহ প্রাণী। তাদের ব্যাপারে কিছু লেখা বা বলা সবচেয়ে মামুলি ব্যাপার। কারণ তাদের প্রতিবাদের ভাষা নেই। রাষ্ট্রের বৃহত্তম পেশাজীবী গোষ্ঠী হওয়া সত্বেও তাদের নিজস্ব কোনো ব্যাংক নেই, হাসপাতাল নেই, সংবাদপত্র নেই।
এ দেশের ডাক্তাররা নিজস্ব ডিউটিতে না গিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে বসে রোগীর কিডনি খুলে বিক্রি করে দিলেও কেউ কিছু বলবে না। কারণ তারা সবকিছু ম্যানেজ করেই করে থাকে। পক্ষান্তরে একজন শিক্ষক সারা মাস প্রাইভেট পড়িয়ে ৩০০ টাকা নিলেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে যাবে।
একজন শিক্ষক/ প্রভাষকের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাবদ যথাক্রমে ১০০০ ও ৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। এ চিকিৎসাভাতা দিয়ে হোমিওপ্যাথিক পুড়িন্দাও কেনা যাবে না আর বাড়ি ভাড়া দিয়ে বস্তিতেও থাকা যাবেনা। অথচ ব্যাংকের একজন টি বয়ও এর চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। শিক্ষকরা অজস্র সালাম পান পাশাপাশি ক্ষুধায়ও কষ্ট পান। বেশিরভাগ শিক্ষকই ঋণে জর্জরিত।
শিক্ষক সমাজকে পিছনে রেখে জাতির সত্যিকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই প্রধান মন্ত্রীর কাছে বেসরকারি শিক্ষক সমাজের আকুল আবেদন মুজিব বর্ষে বেসরকারি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে সোনার বাংলাকে সত্যিকার ডিজিটাল বাংলায় রূপান্তর করতে আপনার যথাযথ পদক্ষেপ একান্ত জরুরি।

লেখক-
সৈয়দ নাজমুল করিম
সহকারী শিক্ষক
কলসকাঠী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়

বরিশাল, বাকেরগঞ্জ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ