1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. rj.nazmul2500@gmail.com : Nazmul Hossain : Nazmul Hossain
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৪ অপরাহ্ন

শুধু নামেই লকডাউন, সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির অবাধ চলাচল

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২০
  • ৯৪ বার

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুধু নামেই লকডাউন চলছে। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লা আর হাটবাজারে রয়েছে মানুষের অবাধ বিচরণ। এদিকে ১০ মে থেকে ঢাকার বিপণিবিতানগুলো খোলার নির্দেশ পেয়ে অনেকেই বেরিয়েছেন দোকানপাট গোছানোর কাজে।
যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অকারণে বের হলে কিংবা আড্ডাবাজি করলে পড়তে হবে শাস্তির মুখে।

ঢাকা মহানগরে প্রবেশের অন্যতম পথ বাবুবাজার ব্রিজ। কয়েকদিন আগেও এই ব্রিজের মুখে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কেউ রাজধানীতে প্রবেশ বা এখন থেকে বের হতে না পারে। ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি।

কিন্তু মঙ্গলবারের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। নেই কোনো প্রতিবন্ধকতা। নেই পুলিশের নজরদারি। সহজেই এই পথে যাতায়াত করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। ছিল ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ।

শুধু বাবুবাজার ব্রিজ নয়, রাজধানীর অন্য প্রবেশমুখগুলোতেও কমছে নজরদারি। তাই বেড়েছে মানুষ ও পরিবহনের অবাধ চলাচল। গণপরিবহন না থাকলেও অন্যান্য যান চলছে স্বাভাবিকভাবেই। অনেক জায়গায় দেখা গেছে আগের মতো মানুষ ও যানবাহনের জটলা। চালকরা বলছেন, ‘পেটের দায়েই রাস্তায় নামতে হচ্ছে তাদের। গাড়ি না চালালে খাওয়া জুটবে না।’

বনানীর পেট্রল ইন্সপেক্টর আবদুল মতিন বলেন, ‘আগের চেয়ে মানুষের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বেশি। তার পরও আমরা বোঝাচ্ছি।’ এদিন সকালে রাজধানীর বনানী, বিজয় সরণি, যাত্রাবাড়ী, আবদুল্লাহপুর ও গাবতলী এলাকায় সিগন্যালে শত শত গাড়ি অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড়ও দেখা গেছে। অনেককে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে।

বিজয় সরণিতে কথা হয় সিএনজি অটোরিকশাচালক জালাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পেটের তাগিদে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। তবে আগের চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী মিলছে। ক’দিন আগেও খুব ভয় ও আতঙ্ক ছিল মানুষের মাঝে, এখন আর সেটা নেই। পুরোদমে আমরা গাড়ি চালাচ্ছি। কোনো বাধা নেই।’

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও শপিংমল ১০ মে থেকে চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সোমবারের এই নির্দেশনা পাওয়ার পর মালিক-কর্মচারীরা তাদের বিপণিবিতান বা দোকানপাট গোছানোর কাজে বের হন মঙ্গলবার। নিউমার্কেট, গাউছিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বিপণিবিতানগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও গোছগাছ চলে দিনভর।

এদিকে নগরীর পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে লোকজনের চলাচল বেড়েছে। নিয়ম না মেনেই অনেকে অকারণে ঘোরাফেরা করছেন। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যারা সরকারের লকডাউন ঘোষণাকে অমান্য করে অকারণে চলাফেরা করে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির (২৯ মার্চ থেকে ৩০ এপিল) এক মাসে অকারণে ঘোরাফেরা করা এবং সামাজিক দূরত্ব না মানার অভিযোগে ১ হাজার ৩৬৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ সময় একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১০৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নিয়ম না মেনে দোকান খোলায় ৩ হাজার ৩৫৬টি মামলা হয়েছে। এ সময় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৯ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সবচেয়ে বেশি মামলা ও জরিমানা হয়েছে ঢাকা মহানগরে। এরপর রয়েছে খুলনা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মৌলভীবাজার জেলা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ