1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. arif_rashid@live.com : Arif Rashid : Arif Rashid
  3. meherunnesa3285@gmail.com : Meherun Nesa : Meherun Nesa
বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

ষড়যন্ত্র করে আমাকে ভিলেন বানিয়েছে কর্তৃপক্ষ: ডা. সংযুক্তা

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩
  • ৮৯ বার

রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতক মারা যাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সংযুক্তা সাহা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাকে ভিলেন বানিয়েছে বলেও দাবি তার।

মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে রাজধানীর পরীবাগের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণায় মাহবুবা রহমান আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে নিজের ওপর আরোপিত অভিযোগের জবাব দিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডা. সংযুক্তা। তিনি বলেন, বিশ্বাস করেন, সেন্ট্রাল হসপিটাল আমার নাম ব্যবহার করে অনিয়ম করেছে। তারা এমন অনিয়ম করবে, আমি ভাবতেও পারিনি।

ডা. সংযুক্তা বলেন, আঁখি আমার রোগী ছিলেন না। তিনি কুমিল্লার একটি স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসসক দেখিয়েছেন। এ বছরের মার্চে তিনি দুই বার সেন্ট্রালে এসে আমাকে দেখিয়েছিলেন। নিয়মিত রোগী হতে হলে একজন গর্ভবতীর গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রতি মাসে একবার এবং শেষের দিকে দুই সপ্তাহে একবার দেখাতে হয়। আঁখি আমার নিয়মিত রোগী ছিলেন না।

আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের কারো জন্যই এই অবহেলাজনিত মৃত্যু কাম্য নয়। এ সমস্যাকে এড়িয়ে না গিয়ে আমাদের প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আড়াল করার সকল পন্থা অবলম্বন করছে। তারা দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে। সেন্ট্রাল হাসপাতাল নিজেদের দায় এড়াতে চাচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২০০৭ সাল থেকে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছি। দুঃখজনকভাবে হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তির সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা প্রচলিত রোগীর ভর্তির নিয়মও তারা উপেক্ষা করছেন। প্রচলিত প্র্যাকটিস অনুযায়ী কোনো চিকিৎসকের লিখিত বা মৌখিক সম্মতি ছাড়া তার অধীনে রোগী ভর্তি হয় না। অথচ মাহবুবা রহমান আঁখি ভর্তি করার সময় সেন্ট্রাল হাসপাতাল আমার কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি। আমার উপস্থিতির ব্যাপারে সেন্ট্রাল হাসপাতাল মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছে যে, আমি বাংলাদেশে আছি। অথচ আমি দেশেই ছিলাম না। এর সব প্রমাণ আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সব দায়িত্বশীল মহলে পাঠিয়েছি।

তার সুনাম ব্যবহারের অভিযোগ করে তিনি বলেন, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের এই ধরনের অপরাধমূলক আচরণ আমার সুনামকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করে আর্থিক লাভের একটি জঘন্য কৌশল ছাড়া কিছুই নয়। এই ঘটনার আগে পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আমি ছিলাম গর্ব। আর এখন নিজেদের গাফিলতি লুকানোর জন্য তারা আমার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা বলছে আমি বেশি রোগী দেখি। অথচ তারা সব সময় বেশি রোগী দেখতে আমাকে উৎসাহিত করেছে। তারা আমার চেম্বারের পাশে ঘুমানোর জন্য বেডের ব্যবস্থাও করেছে।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ভিডিও কলে অপারেশন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে আমি কখনোই এমন কাজ করিনি। আমি ওইখানের একজন কনসালনেন্ট, আমার ওইখানে কোনো মালিকানা নেই। আমি আমার অধীনস্থ কাউকে নিয়োগ বা বহিষ্কার করতে পারি না। জড়িতরা যদি আমার নিয়োগ করা হয়ে থাকে তাহলে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কীভাবে বরখাস্ত করল? বরং সত্যি হলো, আমার রোগী বেশি থাকায় হাসপাতাল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করা তিনজন রেজিস্ট্রার্ড দিয়েছিল। এটি রোগী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার জন্য।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষদের অনিয়মের সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান ডা. সংযুক্তা সাহা।

আঁখির পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলেও জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। ফলে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই সন্তান প্রসব সম্ভব বলে তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন ডা. সংযুক্তা সাহা। প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি করা হয় আঁখিকে। তখন ডা. সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি আছেন এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) কাজ করছেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী ইয়াকুব আলী জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রীকে যখন অটিতে ঢোকানো হয় এবং নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা শুরু করা হয়, তখনও সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে আছেন কি না জানতে চাওয়া হয়। ওই সময়ও কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি আছেন এবং তিনি তার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরে জানা যায় ডা. সংযুক্তা সাহা ছিলেন না এবং তারা রোগীর কোনোরকম চেক-আপ ছাড়াই ডেলিভারির কাজ শুরু করে দেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আঁখি সেন্সলেস হয়ে যান। পরে শেষ পর্যন্ত তার কোনো ইমপ্রুভমেন্ট হয়নি। প্রথমে নবজাতক এবং পরে আঁখি নিজেও মারা যান।

ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১৫ জুন ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা দায়ের করেন ইয়াকুব আলী। মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর গত ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণার সম্পূর্ণ দায় ডা. সংযুক্তা সাহার ওপর চাপায়। সেই অভিযোগের জবাব দিতে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডা. সংযুক্তা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ