1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. arif_rashid@live.com : Arif Rashid : Arif Rashid
  3. meherunnesa3285@gmail.com : Meherun Nesa : Meherun Nesa
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

বাখমুত দখল করতে পারেনি রাশিয়া, দাবি জেলেনস্কির

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ মে, ২০২৩
  • ৭২ বার

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বাখমুত শহর এখনও দখল করতে পারেনি রাশিয়া, এমনই দাবি করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যদিও ধ্বংসপ্রাপ্ত এই শহর পুরোপুরি দখল করা হয়েছে বলে আগেই দাবি করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের বৃহৎ এই সমতল শহরটিতে হামলার নেতৃত্বে ছিল রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের সৈন্যরা। তারাও এই শহরটি থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিল। রোববার (২১ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো-সমর্থিত ভাড়াটে যোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করলেও ভলোদিমির জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, বাখমুত শহর ‘দখল করতে’ পারেনি রাশিয়া। জাপানে গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য হিরোশিমা সফরের সময় ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্ট একথা বলেন।

রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিন এর আগে বাখমুতে তাদের বিজয় হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার সৈন্যরা শেষ পর্যন্ত শহরের অভ্যন্তরে সর্বশেষ এলাকা থেকে ইউক্রেনীয়দের সরিয়ে দিয়েছে। পরে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই দাবি সামনে আনে।

সোভিয়েত আমলে বাখমুতের নাম ছিল আর্টিওমভস্ক। বাখমুতের দখল নিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ওয়াগনার অ্যাসল্ট ইউনিটের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের ফলে এবং আর্টিলারি ও সাউদার্ন গ্রুপ অব ফোর্সের বিমান হামলার মাধ্যমে আর্টিওমভস্ককে মুক্তির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

তবে ইউক্রেনের সামরিক সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, শহরের উপকণ্ঠে কয়েকটি ভবনের নিয়ন্ত্রণ এখনও তাদের হাতে রয়েছে।

বিবিসি বলছে, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বাখমুত পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিতে অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, গত বছরের আগস্ট থেকে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলা এই শহরটি ‘আজ পর্যন্ত’ রাশিয়া ‘দখল’ করতে পারেনি।

বাখমুত শহরের অবস্থা সম্পর্কে তার পূর্ববর্তী মন্তব্য সম্পর্কে বিভ্রান্তির জেরে তিনি আরও বলেন, ‘(তার এখন বলা কথার) কোনও দুই বা তিনটি ব্যাখ্যা বা অর্থ নেই।’

অবশ্য শনিবার পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন দাবি করেন, বাখমুতে রাশিয়ান হামলার নেতৃত্ব দেওয়া তার যোদ্ধারা শহরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা, রুশ বাহিনীকে হটাতে পাল্টা আক্রমণ, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাওয়াসহ নানান বিষয়ে কথা বলেন।

ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রুশ সেনারা তার দেশে হামলা চালিয়ে সভ্যতাকে পদদলিত করেছে। তার ইচ্ছা, একদিন দখলকৃত সব শহর থেকে রুশ বাহিনীকে হটিয়ে দেবেন এবং সেগুলো পুনর্গঠন করবেন। এসময় তিনি বাখমুতকে জাপানের হিরোশিমা শহরের সঙ্গেও তুলনা করেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখি উত্তর দিকে রাশিয়ার দখলকৃত যেসব অঞ্চল আমরা ফিরিয়ে নিয়েছি সেভাবে সব অঞ্চল ফিরিয়ে নেব। আমাদের অবশ্যই পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের অঞ্চলগুলো ফিরে পেতে হবে। যে অঞ্চলগুলো রাশিয়ার দখলে আছে সেখানে আমাদের মানুষদের ফেরানোর স্বপ্ন দেখি।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি হিরোশিমায় এসেছি, যেন বিশ্ব ইউক্রেনের ঐক্যের ডাক শুনতে পায়। যেখানেই সভ্যতা আছে সেখানেই রাশিয়া সবকিছু পদদলিত করেছে।’

রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে বহুল প্রতীক্ষিত পাল্টা আক্রমণ শুরুর সময় নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘যখন পাল্টা আক্রমণ শুরু হবে রাশিয়া এটি টের পাবে।’

তিনি দাবি করেছেন, জি-৭ জোটের নেতাদের কাছ থেকে ‘ভালো অস্ত্র’ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। অস্ত্র দেওয়ার জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্ট।

এ জাতীয় আরো সংবাদ