1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. arif_rashid@live.com : Arif Rashid : Arif Rashid
  3. meherunnesa3285@gmail.com : Meherun Nesa : Meherun Nesa
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
চার দিনের সফরে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী বাকেরগঞ্জে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন আ’লীগ নেত্রী রাফির উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত তমা ক্ষুধা মেটেনি রিয়াল সভাপতির, নজর ১৬তম শিরোপায় আমরা দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মাহিকে দুটি গাড়ি ও ফ্ল্যাট দিয়েছিলেন আজিজ এমপি আনারের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৬ মাসে ১ দিন কিংবা সাপ্তাহে ১ দিন নয়,২৪ ঘন্টা আমি আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই-মঈনুল হাসান নাহিদ! সিরাজদিখানে ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম বাবুল এর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

শুভ জন্মদিন মাশরাফী

দিনলিপি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫০৩ বার

একাধারে ক্রিকেটার, সংসদ সদস্য। মাঠে ও মাঠের বাইরে পুরদস্তর এক অল-রাউন্ডার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ১৯৮৩ সালের আজকের দিনে (৫ অক্টোবর) চিত্রা পাড়ের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম তার। বাবা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন আর মা হামিদা মোর্ত্তজার কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে কৌশিক যে আজকের ‘মাশরাফী’ হয়ে উঠবেন সেটা কে জানতো!

মজার ব্যাপার, একই দিনে ২০১৪ সালে মাশরাফি-সুমি দম্পতির কোল জুড়ে আসে ছেলে সাহেল। বাবা-ছেলে দুজনকেই শুভেচ্ছা জন্মদিনের।

মাশরাফী অবশ্য জন্মদিনটাকে দেখেন অন্য দশটা দিন থেকে আলাদা। এ দিনেই তো জীবন থেকে হারিয়ে যায় আরও একটা বছর। তার মতে, মৃত্যুর দিকে আরেকটু এগিয়ে যাবার দিন এই জন্মদিন।

তিনি কখনও কেক কাটেননি জন্মদিনে। এক বছর বয়সের সময় মা হামিদা মোর্ত্তজা ঘটা করে ছেলের জন্মদিন পালন করবেন বলে কেক নিয়ে আসেন। বাড়ি জুড়ে সাজসাজ রব, প্রথম সন্তানের প্রথম জন্মদিন। কিন্তু মুহূর্তেই সেটি মলিন হয়ে যায়। নানা অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান ডেকে বলে দেন, যেন কেক না কাটে। মেয়েকে বুঝিয়ে দেন, এসব কেন করতে হবে না।

যে কথা সেই কাজ। কেক আর কাটা হয়নি। সেই কথাটা আজও মেনে চলেন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। নিজের জন্মদিনে কেক না কাটলেও ছেলের আবদার রক্ষার চেষ্টা করেন ঠিকই।

চিত্রা দাপিয়ে বেড়ানো সেই কৌশিক আজ ৩৬ পেছনে ফেলে পা দিয়েছেন ৩৭ বছরে। এর মাঝে দেখেছেন কত উত্থান-পতন। এসবের অংশও যে তিনি।

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশের ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া মাশরাফি আজ দেশের সেরা অধিনায়ক হয়ে উঠেছেন সময়ের পরিক্রমায়। তার ছোঁয়ায় যে বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট সেটা তো অজানা নয় এদেশের মানুষের।

২০১৭ সালে আইসিসির কোনো বৈশ্বিক আসরে (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে খেলে তারই নেতৃত্ব। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলে টাইগাররা। ২০১৬ ও ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালেও তার নেতৃত্বে খেলে লাল-সবুজের জার্সি ধারিরা।

শত বাধা বিপত্তি এসেছে এই কুড়ি বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। কতবার যে চোটে পড়েছেন আবার সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দেশের হয়ে লড়তে। ৭ বার তাকে যেতে হয়েছে অপারেশন টেবিলে ছুরি-কাচির নিচে। প্রতিবারই অপারেশনের পর ভেবেছেন, আমি কী আর খেলতে পারব?

তিনি খেলেছেন, ফিরেছেন পুরোদমে। চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিবারই লাল-সবুজ জার্সিটার কলার উঁচিয়ে বল হাতে দৌড়েছেন দেশের হয়ে।

মাশরাফির বাবা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন এসবের সাক্ষী। প্রতিবারই অপারেশনের পর দেখেছেন ছেলের অবর্ণনীয় কষ্টগুলো। মুখ চেপে কাঁদলেও ছেলেকে সাহস জুগিয়েছেন প্রত্যেকটা মুহূর্ত।

‘ওর যখন প্রথমবার অপারেশন হয় তখন আমি ওকে দেখতে যাই। কৌশিককে দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। এই বাচ্চা ছেলেটা কীভাবে এত কষ্ট সহ্য করছে! এমনটা প্রতিবারই হয়েছে। ও ভীষণ সাহসী একটা ছেলে। নইলে কী আর এভাবেও ফিরে আসা যায়?’

মা হামিদা মোর্ত্তজা বলেন, ‘ও শুধু আমার একার ছেলে না। ওর জন্য সবাই দোয়া করে, সবাই নিজের মনে করে বলেই আল্লাহ্‌ কৌশিককে এতদূর নিয়ে এসেছে।’

ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা এখনও পুরোপুরি শেষ করেননি। ২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ২০০৯ সালে অলিখিত বিদায় জানান টেস্ট ক্রিকেটকে। বাকি রেখেছেন শুধু একদিনের ক্রিকেট। দীর্ঘদিন এই ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করে আসা মাশরাফী এ বছরই নেতৃত্ব ছাড়েন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে।

যদিও পুরোপুরি ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগেই জন্মস্থান নড়াইলের মানুষদের কল্যাণে সপে দিয়েছেন নিজেকে। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে অংশ নেন নির্বাচনে।

এখানেও তিনি জয়ী। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ‘নড়াইল হবে প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান’ স্লোগান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দিন-রাত।

বন্ধুদের চোখে মাশরাফী অধিনায়ক কী আর সংসদ সদস্য কী। নড়াইলের শখানেক বন্ধুরা অপেক্ষায় থাকেন কবে আসবে কৌশিক। প্রতিবারই নড়াইল যাবার পর যেন উৎসব লেগে যায়। আর ফেরাটা হয় মলিন মুখে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বন্ধু, ‘ও আমাদের কাছে ছোটবেলার সেই কৌশিকই রয়ে গেছে। ওর নড়াইলে আসাটা আমাদের কাছে উৎসবের। যাবার বেলাটায় যেন বুকটা খালি হয়ে গেল। জন্মদিনে ওর জন্য অনেক ভালোবাসা, শুভ কামনা।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ