1. successrony@gmail.com : Mehedi Hasan Rony :
  2. arif_rashid@live.com : Arif Rashid : Arif Rashid
  3. meherunnesa3285@gmail.com : Meherun Nesa : Meherun Nesa
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

সিরাজদিখানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে প্রসূতি নারীর মৃত্যু!

মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩১ বার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনি চিকিৎসা খাতেও উন্নতি ঘটেছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষও এখন আধুনিক উয়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রসূতি নারীরা কোন প্রকার কাটা ছেড়া ছাড়াই স্বাভাবিক ভাবে বাচ্চা জন্ম দিতেন। আর আজ সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়া প্রসূতী মায়েরা বাচ্চা জন্ম দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারেন না। এর কারণ হচ্ছে আগের দিনের প্রসূতি মায়েদের মত এখনকার প্রসূতি মায়েরা বাচ্চা জন্ম দিতে তাদের কষ্ট হোক সেটা তারা চান না। কোন প্রকার প্রসব যন্ত্রনা ছাড়া বাচ্চা জন্ম দেওয়াকেই তারা সঠিক মনে করে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রতি ঝুুুঁকছেন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার এবং ডাক্তারের চাপে পরেও অনেক প্রসূতি নারী সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে প্রসূতি নারীরা না বুঝেই বিপদ এড়াতে সিজারিয়ানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তবে আধুনিক যুগে এসেও সচেতন মহলের কিছু সংখ্যক প্রসূতি নারী কষ্ট হলেও স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চা জন্ম দিচ্ছেন। এদিকে পারিবার ও বেসরকারী হাসপাতাল সমূহের ডাক্তারদের দেখানো ভয়ে পরে শতকরা ৯০ শতাং প্রসূতি নারী বর্তমানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম দিচ্ছেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার প্রাইভেট ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতাল গুলো রীতিমত সিজারিয়ানের ব্যবসা খুলে বসেছেন। সিজারিয়ান অপারেশনের পূর্বে প্রসূতির স্বাস্থ্যগত দিক ঠিক আছে কিনা সেটি পরিক্ষা নিরিক্ষা না করিয়েই সিজার চালাচ্ছেন। ফলে প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি উদ্বেগজনক হারে মৃত্যর ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের মৃত্যু কারণ হিসেবে এসব বিষয় বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রাধাণ্য পেয়েছে। হাসপাতাল বলতে মানুষের নানা রোগের চিকিৎসা সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে বোঝালেও সম্প্রতি উপজেলার বেশ কয়েকটি বেসরকারী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি নারীর মৃত্যু হওয়াকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজে সচেতন মহলের লোকজন সেসব বেসরকারী হাসপাতাল গুলোকে কসাইখানা বলে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত তথ্য মতে শতকরা ১৫ শতাংশ সিজার অপারেশন স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়। কিন্ত এ উপজেলার ক্লিনিক ও হাসপাতাল সমূহের সংশ্লিষ্ট ও চিকিৎসকদের ব্যবসায়িক মানসিকতা থাকায় শতকরা ৯০ শতাংশ অপ্রয়োজনীয় সিজার অপারেশন তাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না! বিনা কারণে হাসপাগুলোতে সিজার অপারেশন কমিয়ে আনতে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও তেমন কোন উদ্যোগ নেই বললেই চলে। নেই জনসচেতনতা মূলক কোন কার্যক্রম। তথ্য মতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ২৮ টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতালে রয়েছে। ক্লিনিক ও হাসপাতাল গুলোর প্রায় সব কয়টিতেই সিজারিয়ান অপারেশন (OT) ব্যবস্থা রয়েছে। সিজারের লাভজনক বানিজ্যকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল গুলোর মধ্যে কাষ্টমার টানাটানি নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগী চলছে। এমনকি এক হাসপাতালের বিরুদ্ধে অন্য হাসপাতালের লোকজন বদনাম রটিয়ে কাষ্টমারদের তাদের হাসপাতালে বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বেশ কয়েকটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। গত তিনমাসে উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ৬-৭ জন প্রসূতি নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এর মধ্য ২-৩ জনের পরিবার মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও বাকীরা নানা কারণে মূখ খোলে নি। ভুল চিকিৎসায় যাদের মৃত্যু হয়েছে এর মধ্যে কারো পরিবারকে টাকা দিয়ে নয়ত ক্ষমতার দাপটে বোবা বানিয়ে রাখা হয়েছে মর্মে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের চাপে কারো কারো পরিবারের সাথে স্থানীয় ভাবে আপোষ করে ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এছাড়া উপজেলার প্রাইভেট ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতালে সিজারিয়ানে জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সঠিক ভাবে লিপিবদ্ধ না করে কম বেশি দেখিয়ে ওই তথ্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দেখিয়ে থাকেন মর্মে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে এক গাইনি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,সিজার এখন স্বাভাবিক ঘটনায় দাঁড়িয়েছে। দিন যত এগুচ্ছে এর প্রবণতাও বাড়ছে। যা মোটেই ভালো সংবাদ নয়। এর জন্য শুধু শুধু অসাধু ডাক্তার ও হাসপাতালকে দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ইদানীং সিংহভাগ মা ও তার পরিবার সিজার নামক শর্টকার্ট পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দিতে চান। তারা স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ২-৩ দিন অপেক্ষা এবং প্রসবের ব্যথা সহ্য করতে চান না। এটাই হলো বর্তমান সময়ের নির্মম বাস্তবতা। অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। সাথে প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিক ভাবে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার চিন্তা ধারারও কোন বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা জানান, সিরাজদিখান উপজেলায় ২৮ টি বেসরকারী হাসপাতাল রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে সেসব হাসপাতালের কাগজপত্র সংগ্রহসহ তাদের কার্যক্রমের উপর যাচাই বাছাই শুরু করেছি। যে সকল হাসপাতালের কাগজপত্রে সমস্যা বা অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ